বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের উদ্যোগে ৬০ ফুট উচ্চতার গণেশ-আদলের মণ্ডপ
উপস্থিত সাংসদ সুস্মিতা দেব, কণাদ পুরকায়স্থ, পরিমল শুক্লবৈদ্য ও বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা
আজকের বরাক, কাটিগড়া, ৭ নভেম্বর : শ্যামা মায়ের আরাধনাকে ঘিরে এবার এক অভিনব উৎসবের সাক্ষী হতে চলেছে কাটিগড়া। প্রথমবারের মতো বৃহৎ বাজেটের কালীপুজোর আয়োজন করে এলাকায় বিশেষ সাড়া ফেলেছে রুদ্রাভা ক্লাব। কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার সিদ্ধিদাতা গণেশের মুখাবয়বের আদলে নির্মিত বিশাল মণ্ডপ। শনিবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার পর উৎসবের আবহ আরও জমে উঠেছে।

কাটিগড়ার হিলাড়ায় বিধায়কের বাসভবন সংলগ্ন মাঠে গড়ে তোলা হয়েছে এই ব্যতিক্রমী পুজোমণ্ডপ। ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবাশ্রমের সম্পাদক স্বামী গণদীশানন্দ মহারাজ। কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ সহ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব, সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ, লোকসভার সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি চার মণ্ডলের সভাপতি যথাক্রমে নিত্য গোপাল দাস, বিশালাক্ষ দেব, মিঠুন শুক্লবৈদ্য ও নিরাপদ দেব, রুদ্রাভা ক্লাবের কর্মকর্তা ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহারাজ শ্যামা মায়ের আরাধনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির উন্মেষের মধ্য দিয়ে সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শুভবোধ প্রতিষ্ঠায় শক্তি সাধনার গুরুত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মণ্ডপের নান্দনিক নির্মাণশৈলী এবারের পুজোর প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সিদ্ধিদাতা গণেশের মুখাবয়বের আদলে নির্মিত এই প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার বিশাল কাঠামো দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলেই আশা পুজো কমিটির সভাপতি তথা স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ সহ সকল উদ্যোক্তাদের। শ্রীভূমির শিল্পী রাজু বণিকের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে এই দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ। শুধু মণ্ডপই নয়, জাতীয় সড়ক থেকে পুজো প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সাজিয়ে তোলা হয়েছে সুসজ্জিত আলোকিত প্রবেশপথ। গোটা মাঠজুড়েও রয়েছে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার বিশেষ ব্যবস্থা। উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণময় করে তুলতে পুজো উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ফলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়েও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে প্রস্তুত উদ্যোক্তারা।

উল্লেখ্য, এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কাটিগড়া তথা বৃহত্তর বরাক উপত্যকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ আগেই সমগ্র বরাকবাসীকে এই পুজোয় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে অভিনব স্থাপত্যের মণ্ডপ, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে কাটিগড়ার রুদ্রাভা ক্লাবের এবারের কালীপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এলাকার অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।









