বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীর প্রয়াণে বিভিন্ন মহলে গভীর শোক
সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘ গভীর শোক প্রকাশ করে আগামী তিন দিনের কর্মসূচি স্থগিত রাখার পাশাপাশি সংঘ পরিচালিত প্রগতি বিদ্যা নিকেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
আজকের বরাক, কাটিগড়া, ৫ নভেম্বর: এক বর্ণময় ও কর্মমুখর জীবনের অবসান ঘটল। প্রয়াত হলেন কাটিগড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী এবং কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ৭৯ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে কাটিগড়া-সহ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। এছাড়া কাটিগড়ার সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘের সভাপতি হিসেবে প্রায় তিন দশক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর মরদেহ কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডিরেক্টর পদ্মশ্রী ডাঃ রবি কান্নান-সহ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল সোসাইটির কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রিয় সহকর্মীর প্রয়াণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসপাতালের বহু কর্মী। পরে কাটিগড়ায় ফিরিয়ে নিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘ গভীর শোক প্রকাশ করে আগামী তিন দিনের কর্মসূচি স্থগিত রাখার পাশাপাশি সংঘ পরিচালিত প্রগতি বিদ্যা নিকেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাটিগড়া ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট গিল্ডের কর্মকর্তারাও মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
প্রয়াতের বাসভবনে গিয়ে শোক ও সমবেদনা জানান কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, বিজেপির কাটিগড়া মণ্ডল সভাপতি বাবলা দেব, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য তথা কাটিগড়া পঞ্চায়েত সভাপতি অসীম দত্ত-সহ বিভিন্ন মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সিদ্ধেশ্বর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাটিগড়া আঞ্চলিক কমিটির পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়।
অমায়িক, স্নেহশীল ও পরোপকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, নাতি-নাতনি-সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে কাটিগড়া হারাল এক কৃতী সন্তানকে। তবে শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান মানুষের স্মৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।








