কাটিগড়া, ২৩ অক্টোবর: কাছাড়ের কালাইন ব্লক কংগ্রেস কমিটির সভাপতির দায়িত্বভার পুনরায় গ্রহণ করলেন বিশাল সরকার। বুধবার বিকালে কালাইন ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সভায় তাঁর হাতে দায়িত্বভার তুলে দেন কাছাড় জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সজল আচার্য্য। এদিনের সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য দায়িত্বমুক্ত সভাপতি মিলন রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলা কংগ্রেস কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতা, কালাইন ব্লক কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বলেন, গৌরব গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলীয় কর্মীদের এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ব্যক্তিগত মতভেদ ভুলে, দলীয় ঐক্য বজায় রেখে জনগণের স্বার্থে কাজ করাই হবে কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য।

কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীত্বের দাবিদার কুমারজিৎ দেব ওরফে মান্না সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, এবার কাটিগড়া থেকে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় কেউ আটকাতে পারবে না। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের সময় থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের প্রত্যেক কর্মীকে এক পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘ঐক্যই আমাদের শক্তি।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ দাস (সানু), বিশ্বজিৎ মালাকার, পাপন দেব সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তাঁরা প্রত্যেকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দলের মনোবল দৃঢ় রাখার বার্তা দেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাহিন আহমদ লস্কর, জাকির খান, সমসুল হক প্রমুখ। তবে জানা গেছে, জেলা কংগ্রেসের জনা কয়েক কর্মকর্তা সময়মতো সভাস্থলে না পৌঁছানোয় কয়েকজন মণ্ডল সভাপতি সভা শুরু হওয়ার আগেই স্থান ত্যাগ করেন। এটা কিসের ইঙ্গিত? দলীয় অভ্যন্তরে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে দলীয় ‘লবি রাজনীতি’র ইঙ্গিতও হতে পারে। নেতারা চেষ্টা করেও হয়তো কর্মী মহলে ঐক্য মনোভাব এখনো আনতে সক্ষম হন নি! এমনটাই গুঞ্জন চলছে। যাইহোক, এদিন সভার শুরুতে আসামের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পরে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে কালাইন ব্লক কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক স্বাক্ষর অভিযানের সূচনা করা হয়। প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গের আত্মার চিরশান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে এদিনের সভা সমাপ্ত হয়।









