আজকের বরাক, শিলচর, ২৭ অক্টোবর : সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সঠিক দিশা দেখানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় মুক্ত, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজের অসংগতি ও বৈষম্য তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায় বর্মণের সপ্তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে শিলচর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সম্প্রতি শিলচরে এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। আলোচনার বিষয় ছিল ‘সামাজিক প্রগতি, রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যম’।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দীপ দেবের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বিশ্বজিৎ রায় বর্মণ স্মারক সাংবাদিকতা পুরস্কার’। উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক, সনদপত্র, স্মারক, অর্থ ও কলম দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। সম্মান গ্রহণ করে দীপ দেব বলেন, এই স্বীকৃতি আগামী দিনে তাঁকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। প্রয়াত বিন্দু রায়ের স্মৃতিতে পুরস্কারটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন তাঁর পুত্র, উদ্যোগপতি ও সমাজকর্মী বাবুল রায়।
আলোচনায় বাবুল রায় বলেন, জবাবদিহি মূলক রাজনীতি ও কার্যকর নীতির বাস্তবায়নই প্রকৃত সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি। স্বর্ণালী চৌধুরী প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি রিতেন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সাংবাদিকরাই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন।
স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তারা বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, তাঁর কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জামাতা বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কবি-লেখিকা আরতি দাশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্বজিৎ রায়বর্মণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তাঁর পুত্র বৈভব রায়বর্মণ ও কন্যা অনুষ্কা রায়বর্মণ। প্রয়াত সাংবাদিকের স্মৃতিতে কবিতা পাঠ করেন কস্তুরী হোম চৌধুরী, জয়ন্তী দত্ত ও সুপ্রভা রাজকুমারী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অনন্যা রায়বর্মণ, শর্মিষ্ঠা দাস চাকী, শ্রাবণী সরকার ও শান্তিকুমার ভট্টাচার্য। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কবি-সমাজকর্মী শতদল আচার্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সচিব দেবাশিস সোম, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক যুব ব্যক্তিত্ব দীপন ভট্টাচার্য এবং সাংবাদিক মিলন লস্কর। শেষে শাস্ত্রজ্ঞ রোহিতাক্ষ নাথ মন্ত্রপাঠ করেন।








